বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:২২ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ:
রামগঞ্জের ভাটরা ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী এড. মোঃ আমিনুল ইসলাম সুমন || Lakshmipur Pratidin রামগঞ্জে করপাড়া ইউনিয়নের জনগণের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সাংবাদিক ছলিম উল্লাহ || Lakshmipur Pratidin রামগঞ্জের করপাড়া ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী এ.কে.এম তছলিম হোসেন || Lakshmipur Pratidin রামগঞ্জে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছেন আনোয়ার হোসেন খান এমপি || Lakshmipur Pratidin রামগঞ্জের কাঞ্চনপুরে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী সৌদি বিল্লাল || Lakshmipur Pratidin পূনরায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আবুল হোসেন মিঠু || Lakshmipur Pratidin মানবতার কল্যাণে কাজ করাই আমাদের সবার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিৎ …..ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া রামগঞ্জে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শামছুল ইসলাম সুমন || Lakshmipur Pratidin রামগঞ্জে গৃহবধূ ধর্ষনের দায়ে পল্লী চিকিৎসক আটক || Lakshmipur Pratidin রামগঞ্জে পূনরায় চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় হাজী মোহাম্মদ হোসেন রানা || Lakshmipur Pratidin

রামগঞ্জে ট্রাক্টর-যন্ত্রণা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় নিষিদ্ধ ট্রাক্টর-ট্রলির যন্ত্রণা চরম আকার ধারণ করেছে। উপজেলার অভ্যন্তরীণ রাস্তায় প্রতিদিন চার শতাধিক অবৈধ দানব ট্রাক্টর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে হতাহতের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। সঙ্গে ধুলাবালির দাপটও রয়েছে। এতে লোকজন শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। উপজেলার সচেতন লোকজন বর্তমানে ট্রাক্টর যন্ত্রণাকে ‘প্রধান সমস্যা’ হিসেবে দেখছেন।

এদিকে জেলা ও উপজেলায় মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় একাধিকবার ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া অতিষ্ঠ ছাত্র-জনতা প্রতিবাদসভা, স্মারকলিপি, মানববন্ধন ও প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করে প্রতিকার চেয়েছে। সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানা করেও কোনো সুফল আসছে না। ক্ষমতাসীন দলের একটি চক্র এ অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে গত রবিবার জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খান অবৈধ ট্রাক্টর-ট্রলি চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি ট্রাক্টরের জন্য রাস্তাঘাট ক্ষতবিক্ষত জানিয়ে ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন। এর আগে গত বছরের ১৪ এপ্রিল রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ওই এমপি ট্রাক্টর বন্ধের ঘোষণা করেন। কিন্তু ট্রাক্টর মালিক ও চালকরা যেন তাঁকে পাত্তা দিচ্ছে না!

অভিযোগ রয়েছে, রামগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যম সারির দু-তিনজন নেতা ট্রাক্টর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁরা স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই যান চলাচলে সহযোগিতা করছেন। উপজেলা মোটরচালক সমবায় সমিতির নামে ট্রাক্টরগুলো চালানো হয়। সমিতির সাধারণ সম্পাদক জানান, রামগঞ্জে তাঁদের অধীনে ১৯৫টি ট্রাক্টর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উপজেলাব্যাপী এসব চলাচল করে। তবে অন্য একটি সূত্রের ভাষ্য মতে, সমিতির বাইরে আরো দুই শতাধিক ট্রাক্টর চলাচল করে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রামগঞ্জে ২৪টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে সাতটির লাইসেন্স রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ফসলি জমির উপরিভাগে মাটি কেটে ভাটায় বিক্রি করায় এবার উপজেলায় চাষাবাদ কম হয়েছে। এতে বিস্তীর্ণ জমি খালি পড়ে আছে। নোয়াগাঁও, ভাদুর, দরবেশপুর, ভোলাকোটসহ কয়েকটি ইউনিয়নের রাস্তায় ধুলাবালির কারণে হাঁটাও যেন দায়!

পৌরসভাসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ৩৭৫টি কাঁচা-পাকা রাস্তা রয়েছে। গত দুই বছরে বেশির ভাগ রাস্তার ইট-খোয়া উঠে, ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ সময়ের মধ্যে বেপরোয়া ট্রাক্টরের চাপায় ছাত্র-শিশুসহ অন্তত ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। শিশু ও অদক্ষ তরুণদের হাতে দায়িত্বে থাকা ট্রাক্টরের চাপায় আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে অনেককেই। রাজনৈতিক চাপে ঘটনাগুলো টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চলতি মাসে রামগঞ্জ পুলিশ বক্স চত্বর, বালুয়া-চৌমুহনী সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক্টরসহ অবৈধ যানবাহন চালকদের নামে ১৫টি মামলা হয়েছে। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৭৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

ট্রাক্টরচালক ইসমাইল হোসেন ও মো. মতিন জানান, তাঁরা এককালীন টাকা জমা দিয়ে সমিতির সদস্য হয়েছেন। এরপর ট্রাফিকসহ প্রশাসন ম্যানেজ করতে মাসিক চাঁদা নেওয়া হয়। কয়েকজন চালককে জেল-জরিমানা দেওয়ায় এখন আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।

ট্রাক্টর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা রামগঞ্জ উপজেলা মোটরচালক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দানকারী মনির হোসেনের ভাষ্য মতে, ট্রাক্টরের কারণে ক্ষতির চেয়ে উপকারই বেশি। সরু রাস্তার কারণে সহজে মালপত্র পরিবহন করা যায়। রামগঞ্জে এই পেশার সঙ্গে চালক-মালিকসহ অন্তত দেড় হাজার মানুষ জড়িত। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় বাধ্য হয়েই ট্রাক্টর চালাতে হচ্ছে।

নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন মোহাম্মদ রানা ও ভোলাকোট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বশির আহমেদ মানিক জানান, জেলা ও উপজেলার শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এমপি কয়েকবার ট্রাক্টর বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু কোন অদৃশ্য কারণে এটা বন্ধ হচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়। এ কারণে এক মাস আগে করা রাস্তাও নষ্ট হয়ে গেছে। ট্রাক্টর চক্রটি ফসলি জমির মাটি কেটে ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

জানতে চাইলে জেলা ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) মামুন আল আমিন বলেন, ‘আমরা অভিযান চালিয়ে অবৈধ ট্রাক্টর জব্দ করছি। অনেকে তা না চালানোর মুচলেকা দিয়ে যাচ্ছেন। সচেতনতার পাশাপশি সবার সহযোগিতা থাকলে রাস্তায় অবৈধ যান চলতে পারবে না।’

রামগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান বলেন, ‘নিষিদ্ধ যান বন্ধের বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ নিয়ে নিয়মিত অভিযান চলছে। অনেককেই আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অভিযান চলবে।’

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের এমপি আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘অবৈধ ট্রাক্টরের কারণে রামগঞ্জের মানুষ অতিষ্ঠ। ট্রাক্টর, ইটভাটা বন্ধ এবং দখল হওয়ায় খাল উদ্ধারের জন্য আমি প্রশাসনকে বলেছি। এর সঙ্গে দলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলে ছাড় দেওয়া হবে না।’

সূত্র ঃ কালের কন্ঠ

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মূল্যবান মতামত লিখুন


© All rights reserved © 2020 Lakshmipurpratidin.com
Design & Developed BY N Host BD